ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদের আনন্দে প্রবাসীরা কতটুকু হাসি খুশি থাকে Logo ঈদুল আযাহার নামাজ আদায় চকশৈল্যা বাজার ঈদগাহ মাঠে। Logo বিরামপুরে সৌদির সাথে মিল রেখে ১৫টি গ্রামের পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন Logo শেরপুরে পবিত্র ঈদুল আযহার উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা দিলেন ছানুয়ার হোসেন ছানু এমপি Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি ভালুকা প্রতিনিধি”মো:কামরুল ইসলাম “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “প্রেসক্লাব ভালুকা “সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের সহ সম্পাদক “সেরাজুর ইসলাম সিরাজ “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo দৈনিক বর্তমান সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক “সুমন মিয়া “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক”মামুন হাসান বিএ”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo ঈদ আগাম বুকিং কম চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলে

অনাদরে অবহেলায় বেড় ওঠা শিশু 

নুরুল আমিন, ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩ ২৮৫ বার পড়া হয়েছে
নুরুল আমিন
আজকের শিশু আগামী দিনের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সঠিক ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমরা কতটুকু সুযোগ দিতে পেরেছি? অনাদর, অবহেলা আর অযত্ন নিয়ে যে শিশু দিন কাটায়, তার জন্য কী করছি? শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছি? শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ তাদের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ ও মানবাধিকার নিশ্চিত করণ কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সমষ্টিগত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
আমাদের দেশে অনেক শিশু অনাদরে অবহেলায় পড়ে আছে। অর্ধাহারে অনাহারে তাদের দিন চলে যায়। তিনবেলার আহার তাদের ভাগ্যে কখনো জোটে না। একবেলা কোনো রকম খেতে পারলে, আরেক বেলার খবর থাকে না। তাদের দেখার কেউ নেই। যারা অবহেলার শিকার হচ্ছে, পিছিয়ে আছে, তারা আমাদের সন্তান। তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যেই আছে আগামীর বাংলাদেশ। তাদের প্রতি রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো শিশুর মা নেই, কোনো শিশুর বাবা নেই, আবার কোনো শিশুর মা-বাবা কেউ নেই। কিছু শিশুর মা-বাবা থেকেও নেই। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার কারণে দুজনেই নতুন করে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু শিশুটির খবর কেউ তেমন নিচ্ছে না। দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্যকোনো আত্মীয়ের কাছে এই শিশু লালিতপালিত হচ্ছে কিংবা কোনো বাসায় পেটে ভাতে খাটছে। যেরকম আদরযত্ন সে পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। কিছু শিশু আছে যাদের মা-বাবা ও পরিবার পরিজন সবাই আছে, কিন্তু অভাবের তাড়নায় সে অনাথ বা ছিন্নমূল শিশুর মতোই জীবনযাপন করছে। সমাজে এরকম আরো অনেক শিশু আছে যারা অনাদরে অবহেলায় বেড়ে ওঠে। দুঃখকষ্ট আর বঞ্চনা এদের নিত্যসঙ্গী। ভালোবাসার পরশ এদের কাছে স্বপ্নের মতো।
এরা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। অযত্ন অবহেলাকে পুঁজি করে এদের জীবন চলে। এরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এরা নানাবিধ বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়। এসব শিশু যে-কোনো সময় বেঁকে যেতে পারে। বখাটে হতে পারে। এদের দেখাদেখি ভালো শিশুরাও আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব শিশুকে মানুষ করার জন্য উদ্যোক্তা প্রয়োজন। এদের কুড়িয়ে নিয়ে কর্মসংস্থান ও পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, নৈতিক শিক্ষা, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। সেইসাথে শিশু অধিকার রক্ষা হবে।
লেখক: নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.
ট্যাগস :
Translate »

অনাদরে অবহেলায় বেড় ওঠা শিশু 

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩
নুরুল আমিন
আজকের শিশু আগামী দিনের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সঠিক ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমরা কতটুকু সুযোগ দিতে পেরেছি? অনাদর, অবহেলা আর অযত্ন নিয়ে যে শিশু দিন কাটায়, তার জন্য কী করছি? শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছি? শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ তাদের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ ও মানবাধিকার নিশ্চিত করণ কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সমষ্টিগত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
আমাদের দেশে অনেক শিশু অনাদরে অবহেলায় পড়ে আছে। অর্ধাহারে অনাহারে তাদের দিন চলে যায়। তিনবেলার আহার তাদের ভাগ্যে কখনো জোটে না। একবেলা কোনো রকম খেতে পারলে, আরেক বেলার খবর থাকে না। তাদের দেখার কেউ নেই। যারা অবহেলার শিকার হচ্ছে, পিছিয়ে আছে, তারা আমাদের সন্তান। তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যেই আছে আগামীর বাংলাদেশ। তাদের প্রতি রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো শিশুর মা নেই, কোনো শিশুর বাবা নেই, আবার কোনো শিশুর মা-বাবা কেউ নেই। কিছু শিশুর মা-বাবা থেকেও নেই। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার কারণে দুজনেই নতুন করে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু শিশুটির খবর কেউ তেমন নিচ্ছে না। দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্যকোনো আত্মীয়ের কাছে এই শিশু লালিতপালিত হচ্ছে কিংবা কোনো বাসায় পেটে ভাতে খাটছে। যেরকম আদরযত্ন সে পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। কিছু শিশু আছে যাদের মা-বাবা ও পরিবার পরিজন সবাই আছে, কিন্তু অভাবের তাড়নায় সে অনাথ বা ছিন্নমূল শিশুর মতোই জীবনযাপন করছে। সমাজে এরকম আরো অনেক শিশু আছে যারা অনাদরে অবহেলায় বেড়ে ওঠে। দুঃখকষ্ট আর বঞ্চনা এদের নিত্যসঙ্গী। ভালোবাসার পরশ এদের কাছে স্বপ্নের মতো।
এরা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। অযত্ন অবহেলাকে পুঁজি করে এদের জীবন চলে। এরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এরা নানাবিধ বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়। এসব শিশু যে-কোনো সময় বেঁকে যেতে পারে। বখাটে হতে পারে। এদের দেখাদেখি ভালো শিশুরাও আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব শিশুকে মানুষ করার জন্য উদ্যোক্তা প্রয়োজন। এদের কুড়িয়ে নিয়ে কর্মসংস্থান ও পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, নৈতিক শিক্ষা, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। সেইসাথে শিশু অধিকার রক্ষা হবে।
লেখক: নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.