ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদের আনন্দে প্রবাসীরা কতটুকু হাসি খুশি থাকে Logo ঈদুল আযাহার নামাজ আদায় চকশৈল্যা বাজার ঈদগাহ মাঠে। Logo বিরামপুরে সৌদির সাথে মিল রেখে ১৫টি গ্রামের পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন Logo শেরপুরে পবিত্র ঈদুল আযহার উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা দিলেন ছানুয়ার হোসেন ছানু এমপি Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি ভালুকা প্রতিনিধি”মো:কামরুল ইসলাম “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “প্রেসক্লাব ভালুকা “সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের সহ সম্পাদক “সেরাজুর ইসলাম সিরাজ “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo দৈনিক বর্তমান সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক “সুমন মিয়া “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক”মামুন হাসান বিএ”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo ঈদ আগাম বুকিং কম চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলে

নড়াইলে কেমিক্যাল ছাড়াই শুঁটকি তৈরি ভীম বিশ্বাস’র

উজ্জ্বল রায়
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪ ১১৬ বার পড়া হয়েছে


উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//

নড়াইলে কেমিক্যাল ছাড়াই শুঁটকি তৈরি ভীম বিশ্বাস’র।
নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ভীম কুমার বিশ্বাস (৪০)। বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে বেড়িয়ে আসতে তিনি কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি করে বছরে ১০-১২ লাখ টাকা আয় করছেন। তার এই শুঁটকি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। আগামীতে বিদেশে শুঁটকি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে মির্জাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের এক পাশে বাঁশের তৈরি মাঁচায় রোদে শুকানো হচ্ছে পুঁটি মাছের শুঁকটি। ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক দিনভর মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পুঁটি মাছ সংগ্রহ করে এখানে এনে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
শুঁটকি তৈরির কাজ করা শ্রমিক রাজ কুমার বলেন, বাজর থেকে ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা মণ দরে পুঁটি মাছ কিনে আনা হয়। পরে মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে মাঠে সূর্যের রোদে শুকানো হয়। টানা ৭-১০ দিন রোদে শুকিয়ে বস্তায় ভরে শুঁটকি বিক্রি করা হয়। এই মাছ ২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।
শুঁটকি প্রস্তুতকারক ভিম কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দেশি পুঁটি মাছ সংগ্রহ করে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। কোনো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ছাড়াই আমি শুঁটকি মাছ তৈরি করি। যে কারণে আমার শুঁটকির চাহিদা বর্তমানে জেলার গন্ডি পার হয়ে এখন দেশজুড়ে। শ্রমিকদের বেতন দিয়ে বছরে আমার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় থাকে।
সিংগাশোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিটু মোল্যা বলেন, ভিম কুমার বিশ্বাসের শুঁটকি মাছ থেকে সফলতা পেয়েছেন। তার এই সফলতা আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকদের বিভিন্ন মাছের শুঁটকি তৈরিতে আগ্রহী করে তুলবে। ফলে, ক্ষুদ্র শুঁটকি ব্যবসায়ীরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার যুবসমাজ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ভিম কুমার বিশ্বাসের শুঁটকি ব্যবসার প্রসার ঘটাতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সব প্রকার সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সব কিছু মিলিয়ে নড়াইল শস্য ও মৎস্য ভান্ডার নামে খ্যাত। এ অঞ্চলের ফসলাদি ও মৎস্য সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যাপক উন্নতি লাভ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ট্যাগস :
Translate »

নড়াইলে কেমিক্যাল ছাড়াই শুঁটকি তৈরি ভীম বিশ্বাস’র

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪


উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//

নড়াইলে কেমিক্যাল ছাড়াই শুঁটকি তৈরি ভীম বিশ্বাস’র।
নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ভীম কুমার বিশ্বাস (৪০)। বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে বেড়িয়ে আসতে তিনি কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি করে বছরে ১০-১২ লাখ টাকা আয় করছেন। তার এই শুঁটকি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। আগামীতে বিদেশে শুঁটকি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে মির্জাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের এক পাশে বাঁশের তৈরি মাঁচায় রোদে শুকানো হচ্ছে পুঁটি মাছের শুঁকটি। ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক দিনভর মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পুঁটি মাছ সংগ্রহ করে এখানে এনে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
শুঁটকি তৈরির কাজ করা শ্রমিক রাজ কুমার বলেন, বাজর থেকে ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা মণ দরে পুঁটি মাছ কিনে আনা হয়। পরে মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে মাঠে সূর্যের রোদে শুকানো হয়। টানা ৭-১০ দিন রোদে শুকিয়ে বস্তায় ভরে শুঁটকি বিক্রি করা হয়। এই মাছ ২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।
শুঁটকি প্রস্তুতকারক ভিম কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দেশি পুঁটি মাছ সংগ্রহ করে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। কোনো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ছাড়াই আমি শুঁটকি মাছ তৈরি করি। যে কারণে আমার শুঁটকির চাহিদা বর্তমানে জেলার গন্ডি পার হয়ে এখন দেশজুড়ে। শ্রমিকদের বেতন দিয়ে বছরে আমার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় থাকে।
সিংগাশোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিটু মোল্যা বলেন, ভিম কুমার বিশ্বাসের শুঁটকি মাছ থেকে সফলতা পেয়েছেন। তার এই সফলতা আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকদের বিভিন্ন মাছের শুঁটকি তৈরিতে আগ্রহী করে তুলবে। ফলে, ক্ষুদ্র শুঁটকি ব্যবসায়ীরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার যুবসমাজ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ভিম কুমার বিশ্বাসের শুঁটকি ব্যবসার প্রসার ঘটাতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সব প্রকার সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সব কিছু মিলিয়ে নড়াইল শস্য ও মৎস্য ভান্ডার নামে খ্যাত। এ অঞ্চলের ফসলাদি ও মৎস্য সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যাপক উন্নতি লাভ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।