ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদের আনন্দে প্রবাসীরা কতটুকু হাসি খুশি থাকে Logo ঈদুল আযাহার নামাজ আদায় চকশৈল্যা বাজার ঈদগাহ মাঠে। Logo বিরামপুরে সৌদির সাথে মিল রেখে ১৫টি গ্রামের পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন Logo শেরপুরে পবিত্র ঈদুল আযহার উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা দিলেন ছানুয়ার হোসেন ছানু এমপি Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি ভালুকা প্রতিনিধি”মো:কামরুল ইসলাম “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “প্রেসক্লাব ভালুকা “সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের সহ সম্পাদক “সেরাজুর ইসলাম সিরাজ “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo দৈনিক বর্তমান সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক “সুমন মিয়া “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক”মামুন হাসান বিএ”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo ঈদ আগাম বুকিং কম চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলে

পথশিশুর ভবিষ্যৎ কী 

নুরুল আমিন, ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
নুরুল আমিন-
গাছের ডালে বাসা বেঁধে যে পাখি বসবাস করে, সন্ধ্যা হলে সেই পাখিটা আপন নীড়ে ফিরতে পারে। ফেলতে পারে স্বস্তির নিঃশ্বাস। কারণ তার একটা ঠিকানা আছে। কিন্তু আমাদের পথশিশুর অবস্থা কী? তার ভবিষ্যৎ কী? তার তো কোনো ঠিকানা নেই। ওপরের খোলা আকাশ আর নিচের জমিন ছাড়া তার মাথার ওপরে আর কোনো ছাউনি নেই, যেখানে সে মাথা গুঁজে থাকতে পারে। তার ঘর নেই, বাড়ি নেই। শহরের অলিগলি আর সড়ক দ্বীপ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। ভাসমান জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে পথশিশু। এরা ভাসমান জীবনযাপন করে কেন? এদের অপরাধ কী? এরা কেন অধিকার বঞ্চিত?
কষ্টের সাথে তার বসবাস। কষ্টই তার নিত্যদিনের সঙ্গী। পথশিশুদের কষ্ট দেখার মানুষ নেই, কষ্ট বুঝার মানুষ নেই। এরা পথে থাকে বলে সভ্য মানুষেরা ঘৃণা করে। দুমুঠো খাবারের জন্য এরা হাত পাতলে, অনেকেই দুর্ব্যবহার করে। হাজারো ব্যথা জমা পড়ে থাকে ছোট্ট হৃদয়ে। পথেই তাদের বেড়ে ওঠা, পথেই ঠিকানা, পথেই পরিচয়। এরা পথে থাকে কেন? এদের ঘরবাড়ি নেই কেন? আমরা কী একবারও ভেবে দেখেছি। পথে থাকা যদি এদের অপরাধ হয়, তাহলে যে শিশুটি পথেই জন্মগ্রহণ করলো তার অপরাধ কী?
পথশিশুরা কখনো একজায়গায় থাকে না। তারা এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে রাত হয়, সেখানে তারা কাত হয়ে ঘুমিয়ে যায়। বালিশ হিসেবে ব্যবহার করে ইট। বিছানা হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তার কিনারা, সড়ক দ্বীপ কিংবা কোনো খোলা সবুজ গালিচা। এদেরকে কেউ ভালো চোখে দ্যাখে না। ভালোবাসার পরশ এরা কখনো পায় না।
পথেঘাটে মানুষের লাথি চোপাড়, গালিগালাজ খেয়ে তাদের দিন কাটে, তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তারা যৌন শোষণের শিকার হয়। এরা খারাপ লোকের চোখ এড়াতে পারে না। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে, বুকভরা কষ্ট ভুলে থাকতে তারা নেশা করে।
পথশিশুরা অপরাধী নয়, তাদেরকে অপরাধী বানানো হয়। তাদেরকে যে যেভাবে পারে, সে সেভাবেই ব্যবহার করে। মাদক ব্যবসায়ীরা পর্দার আড়ালে থেকে পথশিশুদের দিয়ে মাদক বিক্রি করায়। খারাপ লোকেরা পর্দার আড়ালে থেকে যত রকমের খারাপ কাজ পথশিশুদের দিয়ে করায়। অবৈধ অস্ত্র বিক্রেতারা অস্ত্র আদানপ্রদান ও বিক্রির কাজে পথশিশুদের ব্যবহার করে। অপরাধ জগতের মানুষেরা নিজেদের স্বার্থে অপরাধের কাজে এদের ব্যবহার করে। এরাই হয়ে যায় অন্ধকার গলির কীট। নিষিদ্ধ গলির পঙ্গপাল। এদের থেকে সমাজে বিষাক্ত হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
অন্ধকার গলিতে অপরাধ ও খারাপ কাজ করতে করতে একসময় দেখা যায়  পথশিশুদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তাদের বুকের ভেতর থেকে ব্যথার কুণ্ডলী প্রতিহিংসার আগুন হয়ে ওঠে। তাদের বুকভাঙা কান্নায় নিষ্ঠুরতম গুলির শব্দ ছোঁড়ে। প্রতিপক্ষের গুলিতে কিংবা ক্রসফায়ারে তাদের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। নেশার বিষাক্ত ছোবলে ছিন্নমূল শিশুর জীবন তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়।
আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষ। এদের ছিন্নমূল হওয়ার কারণ হিসেবে পাওয়া যায়– কিছু পরিবারে প্রচণ্ড অভাব, ভিটেমাটি নেই, মা-বাবার বিচ্ছেদ, অকাল মৃত্যু, বহুবিবাহ, অপরিণত বয়সে বিয়ে, অবৈধ প্রেমের ফসল, চরম দারিদ্র্যতা প্রভৃতি কারণে সন্তান পথে নেমে আসে। পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। ছিন্নমূল পথশিশুরা সমাজের স্বীকৃতি পায় না।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ‘পথশিশুদের ৫১ শতাংশ শিশু অশালীন গালমন্দ শোনে, ২০ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, মেয়ে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়।’ এছাড়া বিছানাপত্র নেই, চিকিৎসা নিতে পারে না, গোসল করতে পারে না, যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে, এক কাপড়ে দিন কাটে, পেট ভরে খাবার পায় না এমন মানবেতর জীবনযাপন করে বেশিরভাগ ছিন্নমূল শিশুরা।
ভাসমান পথশিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অনিশ্চিত জীবন তাদের। তারা অধিকার বঞ্চিত। এদের কুড়িয়ে নিয়ে বিশেষ আবাসনে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, লেখাপড়া, নৈতিক শিক্ষা, জীবনমুখী শিক্ষা, সঠিক সুরক্ষা ও পরিচর্যা দেয়া একান্ত প্রয়োজন। এতে তারা অধিকার পাবে আর দেশ পাবে দক্ষ জনশক্তি ও সম্পদ। পথশিশুর জীবন আলোকিত হলে, সেই আলোর হাসিতে ভরে উঠবে দেশ, সবার মুখে হাসি ফুটবে।
লেখক: নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.
ট্যাগস :
Translate »

পথশিশুর ভবিষ্যৎ কী 

আপডেট সময় : ১১:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩
নুরুল আমিন-
গাছের ডালে বাসা বেঁধে যে পাখি বসবাস করে, সন্ধ্যা হলে সেই পাখিটা আপন নীড়ে ফিরতে পারে। ফেলতে পারে স্বস্তির নিঃশ্বাস। কারণ তার একটা ঠিকানা আছে। কিন্তু আমাদের পথশিশুর অবস্থা কী? তার ভবিষ্যৎ কী? তার তো কোনো ঠিকানা নেই। ওপরের খোলা আকাশ আর নিচের জমিন ছাড়া তার মাথার ওপরে আর কোনো ছাউনি নেই, যেখানে সে মাথা গুঁজে থাকতে পারে। তার ঘর নেই, বাড়ি নেই। শহরের অলিগলি আর সড়ক দ্বীপ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। ভাসমান জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে পথশিশু। এরা ভাসমান জীবনযাপন করে কেন? এদের অপরাধ কী? এরা কেন অধিকার বঞ্চিত?
কষ্টের সাথে তার বসবাস। কষ্টই তার নিত্যদিনের সঙ্গী। পথশিশুদের কষ্ট দেখার মানুষ নেই, কষ্ট বুঝার মানুষ নেই। এরা পথে থাকে বলে সভ্য মানুষেরা ঘৃণা করে। দুমুঠো খাবারের জন্য এরা হাত পাতলে, অনেকেই দুর্ব্যবহার করে। হাজারো ব্যথা জমা পড়ে থাকে ছোট্ট হৃদয়ে। পথেই তাদের বেড়ে ওঠা, পথেই ঠিকানা, পথেই পরিচয়। এরা পথে থাকে কেন? এদের ঘরবাড়ি নেই কেন? আমরা কী একবারও ভেবে দেখেছি। পথে থাকা যদি এদের অপরাধ হয়, তাহলে যে শিশুটি পথেই জন্মগ্রহণ করলো তার অপরাধ কী?
পথশিশুরা কখনো একজায়গায় থাকে না। তারা এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে রাত হয়, সেখানে তারা কাত হয়ে ঘুমিয়ে যায়। বালিশ হিসেবে ব্যবহার করে ইট। বিছানা হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তার কিনারা, সড়ক দ্বীপ কিংবা কোনো খোলা সবুজ গালিচা। এদেরকে কেউ ভালো চোখে দ্যাখে না। ভালোবাসার পরশ এরা কখনো পায় না।
পথেঘাটে মানুষের লাথি চোপাড়, গালিগালাজ খেয়ে তাদের দিন কাটে, তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তারা যৌন শোষণের শিকার হয়। এরা খারাপ লোকের চোখ এড়াতে পারে না। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে, বুকভরা কষ্ট ভুলে থাকতে তারা নেশা করে।
পথশিশুরা অপরাধী নয়, তাদেরকে অপরাধী বানানো হয়। তাদেরকে যে যেভাবে পারে, সে সেভাবেই ব্যবহার করে। মাদক ব্যবসায়ীরা পর্দার আড়ালে থেকে পথশিশুদের দিয়ে মাদক বিক্রি করায়। খারাপ লোকেরা পর্দার আড়ালে থেকে যত রকমের খারাপ কাজ পথশিশুদের দিয়ে করায়। অবৈধ অস্ত্র বিক্রেতারা অস্ত্র আদানপ্রদান ও বিক্রির কাজে পথশিশুদের ব্যবহার করে। অপরাধ জগতের মানুষেরা নিজেদের স্বার্থে অপরাধের কাজে এদের ব্যবহার করে। এরাই হয়ে যায় অন্ধকার গলির কীট। নিষিদ্ধ গলির পঙ্গপাল। এদের থেকে সমাজে বিষাক্ত হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
অন্ধকার গলিতে অপরাধ ও খারাপ কাজ করতে করতে একসময় দেখা যায়  পথশিশুদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তাদের বুকের ভেতর থেকে ব্যথার কুণ্ডলী প্রতিহিংসার আগুন হয়ে ওঠে। তাদের বুকভাঙা কান্নায় নিষ্ঠুরতম গুলির শব্দ ছোঁড়ে। প্রতিপক্ষের গুলিতে কিংবা ক্রসফায়ারে তাদের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। নেশার বিষাক্ত ছোবলে ছিন্নমূল শিশুর জীবন তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়।
আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষ। এদের ছিন্নমূল হওয়ার কারণ হিসেবে পাওয়া যায়– কিছু পরিবারে প্রচণ্ড অভাব, ভিটেমাটি নেই, মা-বাবার বিচ্ছেদ, অকাল মৃত্যু, বহুবিবাহ, অপরিণত বয়সে বিয়ে, অবৈধ প্রেমের ফসল, চরম দারিদ্র্যতা প্রভৃতি কারণে সন্তান পথে নেমে আসে। পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। ছিন্নমূল পথশিশুরা সমাজের স্বীকৃতি পায় না।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ‘পথশিশুদের ৫১ শতাংশ শিশু অশালীন গালমন্দ শোনে, ২০ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, মেয়ে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়।’ এছাড়া বিছানাপত্র নেই, চিকিৎসা নিতে পারে না, গোসল করতে পারে না, যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে, এক কাপড়ে দিন কাটে, পেট ভরে খাবার পায় না এমন মানবেতর জীবনযাপন করে বেশিরভাগ ছিন্নমূল শিশুরা।
ভাসমান পথশিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অনিশ্চিত জীবন তাদের। তারা অধিকার বঞ্চিত। এদের কুড়িয়ে নিয়ে বিশেষ আবাসনে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, লেখাপড়া, নৈতিক শিক্ষা, জীবনমুখী শিক্ষা, সঠিক সুরক্ষা ও পরিচর্যা দেয়া একান্ত প্রয়োজন। এতে তারা অধিকার পাবে আর দেশ পাবে দক্ষ জনশক্তি ও সম্পদ। পথশিশুর জীবন আলোকিত হলে, সেই আলোর হাসিতে ভরে উঠবে দেশ, সবার মুখে হাসি ফুটবে।
লেখক: নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.