ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যুব মাতৃ সেবক সামাজিক সংগঠন শিবপুর বটতলী বাজার ফেনী Logo শ্রীমঙ্গলে গৃহপালিত কুকুরের সঙ্গে বুনো শুকরের বন্ধুত্ব Logo শাহজাদপুরে ৬ দিনব্যাপী কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন Logo বিরামপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরন Logo বিরামপুরের সর্প দর্শন বিষয়ক সচেতনতা মূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo পলাশবাড়ীতে বিআরডিবি সুফলভুগি সদস্যদের তিন দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন Logo ধর্মপাশায় ভুয়া প্রকল্পের বরাদ্দ দেখিয়ে 10 টন চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামের ভোগ ডাঙ্গায় ওষুধ বাকি না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে Logo বাংলাদেশের সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে: এমপি আলহাজ্ব এস এম আল মামুন Logo শ্রীপুরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় ‘আত্মহত্যা করলেন যুবক

ভোলার লালমোহনে ভালোবেসে ১৬টি বিড়াল পুষে নজিরবিহীন রেকর্ড করলেন শিক্ষিকা বাণী মজুমদার

নুরুল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

নুরুল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি

ভোলার লালমোহনে বাণী মজুমদার নামে এক শিক্ষিকা ১৬টি বিড়াল পরম যত্নে পুষে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন পোষা বিড়ালগুলোর সঙ্গে। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া সড়কের নিজ বাসায় ১৬টি বিড়াল পোষছেন তিনি। এটি তার নজিরবিহীন রেকর্ড। প্রতিদিন এসব বিড়ালকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় সিদ্ধ মাছ ও ভাত। পরম যত্নে বিড়ালগুলোকে করেন পরিচর্যাও। এ যেন প্রাণির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। বাণী মজুমদার লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন।

জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে দেশীয় প্রজাতির ছোট একটি বিড়াল সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখে তার ছেলে তন্ময় সরকার সেটিকে বাসায় নেন। এরপর যত্ন করে বিড়ালটিকে পালতে শুরু করেন পরিবারের সকলে। এরমধ্যে আরেকটি দেশি বিড়াল এসে ওই বিড়ালটির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেখানের একটি পুরুষ ও একটি মহিলা বিড়াল। এরপর মহিলা বিড়ালটি বাচ্চা দিতে শুরু করে। এখন সব মিলিয়ে বাণী মজুমদারের বাসায় বিড়ালের সংখ্যা ১৬টি। এরমধ্যে- ছোট ছানা ৫টি, কিশোর ৩টি ও পূর্ণবয়স্ক ৮টি বিড়াল রয়েছে।

শিক্ষিকা বাণী মজুমদার বলেন, এসব বিড়ালগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দেই। এগুলো পরিবারের সকলের সঙ্গে দুষ্টুমী করে। যা সকলে উপভোগ করি। রাতে বিড়ালগুলো বাসার বিভিন্ন জায়গাসহ খাটে উঠে ঘুমায়। এসব বিড়ালের প্রতি আমার এক ধরনের মায়া জন্মেছে। এখন বাসায় এসে এগুলোকে না দেখলে ভালো লাগে না। স্কুলে যাওয়ার সময় বড়ো বিড়ালগুলো আমাকে সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে। আবার ফেরার সময় সেখান থেকে বরণ করে নিয়ে আসে। তাই এই বিড়ালগুলোর প্রতি ভালোবাসা একটু বেশিই। নিয়মিত বিড়ালগুলো যত্ন করে পরিচর্যা করি। এছাড়া সময় মতো বিড়ালগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনও প্রদান করা হয়।বাণী মজুমদারের স্বামী রতন সরকার বলেন, আমার স্ত্রী বিড়ালগুলোকে অনেক ভালোবাসে এবং আদর-যত্ন করে। বিড়ালগুলো যখন নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমি করে তখন পুরো ঘর মাতিয়ে রাখে। এতে করে আমরাও অনেক আনন্দ পাই। এসব বিড়াল পালনে আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি।

ন্যাচার কনজারভেশন কমিটি (এনসিসি) ভোলার সমন্বয়কারী মো. জসিম জনি জানান, পশু-পাখি পালনের মাধ্যমে মানুষের মনে আত্মতৃপ্তি মিলে। যারা প্রাণির প্রতিআন্তরিক থাকেন তারা কখনও খারাপ কাজ করতে পারেন না। আমরা চাই; সমাজের প্রত্যেক মানুষ উদার হোক। যত্নশীল হোক প্রতিটি প্রাণির প্রতি। লালমোহন প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরশাদ মামুন বলেন, বিড়ালের প্রতি বাণী মজুমদারের এ ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে। জাতীয় শত্রু ইঁদুর নিধনে ঘরে ঘরে সকলে বিড়াল পোষা উচিত। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে শিক্ষিকা বাণী মজুমদারের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিড়াল থেকে কোনো আয় আসে না। তবুও তিনি বিড়াল পোষেন। যত্ন করেন, টাকা খরচ করেন। জীবের প্রতি গভীর প্রেম ও ভালোবাসা ছাড়া এটা আর কিছু নয়। এট তার নজিরবিহীন রেকর্ড।

ট্যাগস :
Translate »

ভোলার লালমোহনে ভালোবেসে ১৬টি বিড়াল পুষে নজিরবিহীন রেকর্ড করলেন শিক্ষিকা বাণী মজুমদার

আপডেট সময় : ১০:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩

নুরুল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি

ভোলার লালমোহনে বাণী মজুমদার নামে এক শিক্ষিকা ১৬টি বিড়াল পরম যত্নে পুষে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন পোষা বিড়ালগুলোর সঙ্গে। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া সড়কের নিজ বাসায় ১৬টি বিড়াল পোষছেন তিনি। এটি তার নজিরবিহীন রেকর্ড। প্রতিদিন এসব বিড়ালকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় সিদ্ধ মাছ ও ভাত। পরম যত্নে বিড়ালগুলোকে করেন পরিচর্যাও। এ যেন প্রাণির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। বাণী মজুমদার লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন।

জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে দেশীয় প্রজাতির ছোট একটি বিড়াল সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখে তার ছেলে তন্ময় সরকার সেটিকে বাসায় নেন। এরপর যত্ন করে বিড়ালটিকে পালতে শুরু করেন পরিবারের সকলে। এরমধ্যে আরেকটি দেশি বিড়াল এসে ওই বিড়ালটির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেখানের একটি পুরুষ ও একটি মহিলা বিড়াল। এরপর মহিলা বিড়ালটি বাচ্চা দিতে শুরু করে। এখন সব মিলিয়ে বাণী মজুমদারের বাসায় বিড়ালের সংখ্যা ১৬টি। এরমধ্যে- ছোট ছানা ৫টি, কিশোর ৩টি ও পূর্ণবয়স্ক ৮টি বিড়াল রয়েছে।

শিক্ষিকা বাণী মজুমদার বলেন, এসব বিড়ালগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দেই। এগুলো পরিবারের সকলের সঙ্গে দুষ্টুমী করে। যা সকলে উপভোগ করি। রাতে বিড়ালগুলো বাসার বিভিন্ন জায়গাসহ খাটে উঠে ঘুমায়। এসব বিড়ালের প্রতি আমার এক ধরনের মায়া জন্মেছে। এখন বাসায় এসে এগুলোকে না দেখলে ভালো লাগে না। স্কুলে যাওয়ার সময় বড়ো বিড়ালগুলো আমাকে সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে। আবার ফেরার সময় সেখান থেকে বরণ করে নিয়ে আসে। তাই এই বিড়ালগুলোর প্রতি ভালোবাসা একটু বেশিই। নিয়মিত বিড়ালগুলো যত্ন করে পরিচর্যা করি। এছাড়া সময় মতো বিড়ালগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনও প্রদান করা হয়।বাণী মজুমদারের স্বামী রতন সরকার বলেন, আমার স্ত্রী বিড়ালগুলোকে অনেক ভালোবাসে এবং আদর-যত্ন করে। বিড়ালগুলো যখন নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমি করে তখন পুরো ঘর মাতিয়ে রাখে। এতে করে আমরাও অনেক আনন্দ পাই। এসব বিড়াল পালনে আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি।

ন্যাচার কনজারভেশন কমিটি (এনসিসি) ভোলার সমন্বয়কারী মো. জসিম জনি জানান, পশু-পাখি পালনের মাধ্যমে মানুষের মনে আত্মতৃপ্তি মিলে। যারা প্রাণির প্রতিআন্তরিক থাকেন তারা কখনও খারাপ কাজ করতে পারেন না। আমরা চাই; সমাজের প্রত্যেক মানুষ উদার হোক। যত্নশীল হোক প্রতিটি প্রাণির প্রতি। লালমোহন প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরশাদ মামুন বলেন, বিড়ালের প্রতি বাণী মজুমদারের এ ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে। জাতীয় শত্রু ইঁদুর নিধনে ঘরে ঘরে সকলে বিড়াল পোষা উচিত। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে শিক্ষিকা বাণী মজুমদারের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিড়াল থেকে কোনো আয় আসে না। তবুও তিনি বিড়াল পোষেন। যত্ন করেন, টাকা খরচ করেন। জীবের প্রতি গভীর প্রেম ও ভালোবাসা ছাড়া এটা আর কিছু নয়। এট তার নজিরবিহীন রেকর্ড।