ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিরামপুরে সৌদির সাথে মিল রেখে ১৫টি গ্রামের পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন Logo শেরপুরে পবিত্র ঈদুল আযহার উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা দিলেন ছানুয়ার হোসেন ছানু এমপি Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি ভালুকা প্রতিনিধি”মো:কামরুল ইসলাম “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “প্রেসক্লাব ভালুকা “সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের সহ সম্পাদক “সেরাজুর ইসলাম সিরাজ “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo দৈনিক বর্তমান সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক “সুমন মিয়া “পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo “দৈনিক বর্তমান সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক”মামুন হাসান বিএ”পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা Logo ঈদ আগাম বুকিং কম চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলে Logo বিরামপুরে সৌদির সাথে মিল রেখে ১৫টি গ্রামের পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন Logo শাহজাদপুর উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদকের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।

১২ অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও নাগরিক ভাবনা

মোঃ হাসানুজ্জামান সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

১২ অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ)

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও নাগরিক ভাবনা

মোঃ হাসানুজ্জামান
সিনিয়র রিপোর্টার

আজ ১৮ ডিসেম্বর- আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস। মূলত একটা দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করা ব্যক্তিদেরকেই অভিবাসী বলা হয়। এই অভিবাসী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অভিবাসী শব্দটি কাজের সন্ধানে বিদেশে গমনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। আর হ্যা- সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যাটা ভয়ানক হারে বেড়েই চলেছে।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ অনুসারে বাংলাদেশ থেকে ১২টি অবৈধ পথে ইউরোপে যাচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এসব অবৈধ পথের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা থেকে আকাশপথে দোহা-মিসর হয়ে লিবিয়া এবং পরে সাগরপথে মূল গন্তব্য ইতালি। ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী এই পথ ব্যবহার করে থাকে। অথচ তারা নিশ্চিত ঝুঁকির কথা মনেও রাখছে না।

বিদেশে গমনকারীদের প্রত্যাশিত দেশঃ
অনিয়মিত নানা রকমের অভিবাসীদের ওপর করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে পছন্দের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ইতালি, জার্মানি, গ্রিস, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স। ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর কয়েক হাজার বাংলাদেশি অবৈধ পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

জরিপ থেকে মৃত্যু হারের ভয়ানক তথ্যঃ
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৬২ হাজার ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীবাহী নৌযান মাঝেমধ্যে ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ২ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে ইতালিগামী নৌকা ডুবে ৬১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গবেষণাকারী কর্তৃপক্ষঃ
গবেষণাটি করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ড. সেলিম রেজা। গবেষণার তথ্য গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বিশ্বায়িত বিশ্বে অভিবাসন, গতিশীলতা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

গবেষকের মতঃ
ড. সেলিম রেজা জানান, ১০০ জন অনিয়মিত অভিবাসীর ওপর করা এই গবেষণায় সময় লেগেছে এক বছর। এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ৪৫ জন ইউরোপে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই, ৩০ জন গন্তব্যে পৌঁছে কাজ না পেয়ে আটক হয়ে এবং বাকি ২৫ জন চাকরি পাওয়ার পর আটক হয়ে দেশে ফিরেছেন। অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র থাকে না।

অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতিঃ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি হেড অব মিশন ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা রোজানা রশীদ প্রমুখ।

ইউরোপ গমনের ধরনঃ
সেলিম রেজা জানান, এই ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনের গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে দুবাই-সুদান অথবা ইথিওপিয়া-লিবিয়া হয়ে ইতালি। তাঁরা আকাশপথ, স্থল ও সাগরপথ ব্যবহার করেন। অন্য ১০ শতাংশ ঢাকা-দুবাই-সুদান অথবা ইথিওপিয়া-তিউনিসিয়া-ইতালি পথ ব্যবহার করেন। তাঁরাও আকাশপথ, স্থল ও সাগরপথ ব্যবহার করেন।

অভিবাসীদের রুটঃ
অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বেশি ব্যবহৃত অন্য পথগুলো হলো ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া; ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া-জার্মানি এবং ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া-ইতালি। গবেষণাটির ক্ষেত্র ছিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নরসিংদী ও শরীয়তপুর।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও ধোঁয়াশাঃ
গবেষণায় বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ২২ শতাংশের মতে, ইউরোপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। ৩৩ শতাংশ বলেন, শিক্ষা অনুযায়ী প্রত্যাশিত চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় তাঁরা ঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপমুখী হয়েছেন। এ ছাড়া দেশে কর্মসংস্থানের কম সুযোগ, চাকরিতে স্বল্প বেতন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অসন্তুষ্টি তাঁদের অনিয়মিত অভিবাসী হওয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতারিত হওয়ার মাধ্যমঃ
গবেষণায় উঠে এসেছে, ৫৮ শতাংশ অভিবাসীপ্রত্যাশী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রভাবিত হয়েছেন। ৯২ শতাংশ অবিবাহিত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া ৬২ শতাংশ পরিবারের প্রবাসী সদস্যের চাপে এ পথ বেছে নেন। মূলত নামে-বেনামে বিভিন্ন এজেন্সি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কথিত সহজ উপায়ে পাঠানোর লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে।এসব দেখে খুব সহজেই মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

অতিথিদের মতঃ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর বাইরে একাডেমিকভাবেও তাঁদের নিয়ে আরও কাজ করে বিষয়গুলো জানানো উচিত।

ড.বার্ন্ড স্প্যানিয়ার বলেনঃ
যাঁরা এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। যাঁরা এভাবে যাচ্ছেন, তাঁরা প্রতারিত হয়ে ফিরে আসছেন। দক্ষতা ও ন্যূনতম শিক্ষা থাকা ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য নিয়ে যাওয়া উচিত।

সার্বজনিন পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত ?
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দিনকে দিন বেকারত্ব বাড়ছেই। সরকার নানাবিধ জনকল্যাণমুখী মেগা প্রজেক্ট ও উদ্যোগী হয়ে বেকারত্ব দূরীকরণের চেষ্টা করছে। এর বাইরে আমাদেরকে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশে থেকেই ভাগ্যের চাকা বদলানে সম্ভব- এই কথাটি মানুষকে বোঝাতে হবে। আর বিদেশে যদি যেতেই হয়, তাহলে অবৈধ নয়- বৈধ পথে বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে হবে। তাহলেই ইউরোপ-সোনার হরিণ নামক স্বপ্ন থেকে মানুষ অবৈধ চিন্তা পরিহার করবে।

ট্যাগস :
Translate »

১২ অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও নাগরিক ভাবনা

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

১২ অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ)

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও নাগরিক ভাবনা

মোঃ হাসানুজ্জামান
সিনিয়র রিপোর্টার

আজ ১৮ ডিসেম্বর- আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস। মূলত একটা দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করা ব্যক্তিদেরকেই অভিবাসী বলা হয়। এই অভিবাসী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অভিবাসী শব্দটি কাজের সন্ধানে বিদেশে গমনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। আর হ্যা- সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যাটা ভয়ানক হারে বেড়েই চলেছে।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ অনুসারে বাংলাদেশ থেকে ১২টি অবৈধ পথে ইউরোপে যাচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এসব অবৈধ পথের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা থেকে আকাশপথে দোহা-মিসর হয়ে লিবিয়া এবং পরে সাগরপথে মূল গন্তব্য ইতালি। ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী এই পথ ব্যবহার করে থাকে। অথচ তারা নিশ্চিত ঝুঁকির কথা মনেও রাখছে না।

বিদেশে গমনকারীদের প্রত্যাশিত দেশঃ
অনিয়মিত নানা রকমের অভিবাসীদের ওপর করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে পছন্দের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ইতালি, জার্মানি, গ্রিস, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স। ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর কয়েক হাজার বাংলাদেশি অবৈধ পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

জরিপ থেকে মৃত্যু হারের ভয়ানক তথ্যঃ
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৬২ হাজার ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীবাহী নৌযান মাঝেমধ্যে ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ২ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে ইতালিগামী নৌকা ডুবে ৬১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গবেষণাকারী কর্তৃপক্ষঃ
গবেষণাটি করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ড. সেলিম রেজা। গবেষণার তথ্য গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বিশ্বায়িত বিশ্বে অভিবাসন, গতিশীলতা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

গবেষকের মতঃ
ড. সেলিম রেজা জানান, ১০০ জন অনিয়মিত অভিবাসীর ওপর করা এই গবেষণায় সময় লেগেছে এক বছর। এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ৪৫ জন ইউরোপে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই, ৩০ জন গন্তব্যে পৌঁছে কাজ না পেয়ে আটক হয়ে এবং বাকি ২৫ জন চাকরি পাওয়ার পর আটক হয়ে দেশে ফিরেছেন। অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র থাকে না।

অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতিঃ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি হেড অব মিশন ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা রোজানা রশীদ প্রমুখ।

ইউরোপ গমনের ধরনঃ
সেলিম রেজা জানান, এই ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনের গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে দুবাই-সুদান অথবা ইথিওপিয়া-লিবিয়া হয়ে ইতালি। তাঁরা আকাশপথ, স্থল ও সাগরপথ ব্যবহার করেন। অন্য ১০ শতাংশ ঢাকা-দুবাই-সুদান অথবা ইথিওপিয়া-তিউনিসিয়া-ইতালি পথ ব্যবহার করেন। তাঁরাও আকাশপথ, স্থল ও সাগরপথ ব্যবহার করেন।

অভিবাসীদের রুটঃ
অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বেশি ব্যবহৃত অন্য পথগুলো হলো ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া; ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া-জার্মানি এবং ঢাকা-তুরস্ক-গ্রিস-আলবেনিয়া-কসোভো-সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া-ইতালি। গবেষণাটির ক্ষেত্র ছিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নরসিংদী ও শরীয়তপুর।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও ধোঁয়াশাঃ
গবেষণায় বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ২২ শতাংশের মতে, ইউরোপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। ৩৩ শতাংশ বলেন, শিক্ষা অনুযায়ী প্রত্যাশিত চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় তাঁরা ঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপমুখী হয়েছেন। এ ছাড়া দেশে কর্মসংস্থানের কম সুযোগ, চাকরিতে স্বল্প বেতন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অসন্তুষ্টি তাঁদের অনিয়মিত অভিবাসী হওয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতারিত হওয়ার মাধ্যমঃ
গবেষণায় উঠে এসেছে, ৫৮ শতাংশ অভিবাসীপ্রত্যাশী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রভাবিত হয়েছেন। ৯২ শতাংশ অবিবাহিত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া ৬২ শতাংশ পরিবারের প্রবাসী সদস্যের চাপে এ পথ বেছে নেন। মূলত নামে-বেনামে বিভিন্ন এজেন্সি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কথিত সহজ উপায়ে পাঠানোর লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে।এসব দেখে খুব সহজেই মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

অতিথিদের মতঃ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রা বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর বাইরে একাডেমিকভাবেও তাঁদের নিয়ে আরও কাজ করে বিষয়গুলো জানানো উচিত।

ড.বার্ন্ড স্প্যানিয়ার বলেনঃ
যাঁরা এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। যাঁরা এভাবে যাচ্ছেন, তাঁরা প্রতারিত হয়ে ফিরে আসছেন। দক্ষতা ও ন্যূনতম শিক্ষা থাকা ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য নিয়ে যাওয়া উচিত।

সার্বজনিন পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত ?
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দিনকে দিন বেকারত্ব বাড়ছেই। সরকার নানাবিধ জনকল্যাণমুখী মেগা প্রজেক্ট ও উদ্যোগী হয়ে বেকারত্ব দূরীকরণের চেষ্টা করছে। এর বাইরে আমাদেরকে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশে থেকেই ভাগ্যের চাকা বদলানে সম্ভব- এই কথাটি মানুষকে বোঝাতে হবে। আর বিদেশে যদি যেতেই হয়, তাহলে অবৈধ নয়- বৈধ পথে বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে হবে। তাহলেই ইউরোপ-সোনার হরিণ নামক স্বপ্ন থেকে মানুষ অবৈধ চিন্তা পরিহার করবে।