ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যুব মাতৃ সেবক সামাজিক সংগঠন শিবপুর বটতলী বাজার ফেনী Logo শ্রীমঙ্গলে গৃহপালিত কুকুরের সঙ্গে বুনো শুকরের বন্ধুত্ব Logo শাহজাদপুরে ৬ দিনব্যাপী কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন Logo বিরামপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরন Logo বিরামপুরের সর্প দর্শন বিষয়ক সচেতনতা মূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo পলাশবাড়ীতে বিআরডিবি সুফলভুগি সদস্যদের তিন দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন Logo ধর্মপাশায় ভুয়া প্রকল্পের বরাদ্দ দেখিয়ে 10 টন চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামের ভোগ ডাঙ্গায় ওষুধ বাকি না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে Logo বাংলাদেশের সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে: এমপি আলহাজ্ব এস এম আল মামুন Logo শ্রীপুরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় ‘আত্মহত্যা করলেন যুবক

১৪ বছর পর নিজ মাটিতে পা রাখলেন,মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ :

সুদির্ঘ্য এক যুগেরও বেশী সময়কাল টানা ১৪ বছর পর নিজ গাঁয়ের মাটিতে পা রাখলেন,৯০’এর স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী সে সময়ের তুখোড় ও কিংবদন্তি ছাত্রনেতা,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল,সিরাজগঞ্জের অহংকার
মজলুম জননেতা মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। প্রায় ৩ বছর কারাভেগের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অতি সম্প্রতি মুক্তি লাভ করে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার জন্য গত মঙ্গলবার ভোরে নিজ জেলা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৌড় গ্রামে কিছুটা সময়ের জন্য আসেন মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,কেন্দ্রীয় মজলিশে শু’রা সদস্য,সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ শাহীনূর আলম,বেলকুচি উপজেলা আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল,উল্লাপাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,
জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওঃ এস,এম মূর্তজা আলী,
মাওঃ আবুল কালাম আজাদ,অধ্যাপক গোলাম আযম,
আব্দুল বারী ও মাওঃ ফজলুল হক প্রমূখ। মূহুর্তেই ভোরের আলো ফোটার আগেই খাঁন সাহেব নিজ গ্রামে আসছেন,খবরটি ছড়িয়ে পরলে তাঁকে একনজর দেখার জন্য তাঁর নিজ এলাকাসহ আশে-পাশের এলাকা:চরনবীপুর,ডিগ্রীচর,লক্ষীকোলা ও নলসন্ধা গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ,আবাল,বৃদ্ধ-বনিতা ও ছাত্র-
জনতার ঢল নামে। গ্রামের সবুজ-শ্যামল ফসলের মাঠ পেড়িয়ে,মেঠোপথ ধরে চাতকের মত প্রিয় সন্তানের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে গ্রামবাসী। কখন আসবে গ্যাঁদা ? আর কত অপেক্ষা! প্রিয় সন্তানকে কাছে পাবার ও এক নজর দেখার প্রত্যাশায় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী’র সে কি আকূতি! আকূতি আর অপেক্ষার প্রহর শেষ করে আপন ও প্রিয়জনদের পাশে এসে গাড়ী থেকে নেমে স্বপ্নের মত দাঁড়ালেন এই গ্রামের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা,শৈশব ও কৈশোরে দূর্বার গতিতে গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে চলা পিন্টু। (পিন্টু,রফিকুল ইসলাম খাঁনের ডাক নাম। নতুন প্রযন্ম না জানলেও গ্রামের মুরব্বিরা তাঁকে পিন্টু নামেই চেনে ) সেই পিন্টুই আজ ১৪ বছর পর এসে ছল ছল চোখে হাত উচিয়ে সালাম দিয়ে বললেন,’আপনারা সবাই কেমন আছেন ? হাজারো জনতা আলহামদুলিল্লাহ বলেই খাঁন সাহেবকে সবাই বুঁকে জড়িয়ে নেন। হাত মিলান ও প্রিয় সন্তানকে কাছে পেয়ে সবাই আবেগ-
আপ্লুত হয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পরেন। এ সময় দৃঢ়চেতা নেতা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে অনেক কষ্ঠে নিজেকে সামলে নেন। অশীতিপর বৃদ্ধ রমিজ আলী চাচা লাঠি ভর করে জনতার ভীর ঠেলে প্রিয় সন্তানকে বুঁকে জঁড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। রমিজ চাচা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাতে মুখে আদরের পরশ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন,’ও গ্যাদা পিন্টু! তোমাক বলে পুলিশ ধইরা ড্যান্ডাবেড়ী পরাইয়া কোর্ট-কাঁচারীত নিয়ে গেছে আর মরছে’! এ প্রশ্নের জবাবে খাঁন সাহেব চাচাকে শান্তনা দেন ও বলেন,’ না বাবা,আলহামদুলিল্লাহ! আমি ভাল আছি। আমার কিচ্ছু হয় নাই’। এ সময়,প্রিয় নেতার পাশে থাকা সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওঃ শাহীনূর আলম রমিজ চাচাসহ উপস্থিত সবাইকে শান্তনা দিয়ে বলেন,
‘আমাদের নেতা এবং আপনাদের প্রিয় সন্তান মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন শুধুমাত্র ইসলামের দাওয়াত ও দ্বীনের কাজ করার কারনেই জালিম সরকার তাঁকে শতাধিক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সুদির্ঘ্য ১৪ টি বছর তাকে স্বাভাবিক ও নাগরিক অধিকার এবং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হওয়ার কারনে তিনি, তাঁর বাবার জানাযায় আসতে পারিনি। আপন চাচা ও বড় ভাইয়ের জানাযাও আসা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষে তাকে আটক করে প্রায় ৩টি বছর কারাবাস করতে হয়েছে। তাঁর সন্তান রিফাত খাঁনসহ তাঁর পরিবারের ওপর জুলুম ও নির্যাতন করা হয়েছে। জুলুম নির্যাতন এখানেই শেষ নয়। জামিন লাভের পরেও বার বার তাঁকে কারাফটক থেকে গ্রেফতার করে মানবাধিকার লংঘন করে ডান্ডাবেড়ী পরিয়ে কোর্টে হাজির করা হয়েছে। মুলত: রফিকুল ইসলাম খাঁনকে কষ্ট দেয়ার হীনো উদ্দেশ্য নয়: বরং,সরকারের উদ্দেশ্য ছিল,দেশের চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলন দূর্বল করার স্বার্থে নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া’। তিনি আরো বলেন,’সরকার তার সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নেতা-কর্মীরা ভয়ও পায়নি,ঘাবরেও যায়নি। বরং বজ্র সাহসে হুমকার বেগে প্রিয় নেতাদের মুক্ত করার দ্বীপ্ত শপথ নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে’। যার কারনে আপনাদের দো’য়া ও আমাদের আইনজীবিসহ নেতা-কর্মীদের প্রচেষ্ঠায় তিনি আবার মুক্ত পরিবেশে ১৪ টি বছর পর আপনাদের সামনে হাজির হতে পেরেছেন,
আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু,এখনো মুক্ত স্বাধীন হতে পারেননি বলেই দুঃখজনকভাবে বাবা ও মায়ের কবরসহ আপন জনদের কবর জিয়ারত করে।জেলা আমীর শাহীনূর আলম উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন,’ এটা কি স্বাধীন দেশ! এ জুলুমের শেষ কোথায়;? জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত মত বিনিময় ও কথা বলা শেষ হলে গাঁয়ের মেঠো পথ ধরেই প্রায় ২ কিলোমিটার পথ শত শত জনতাকে সাথে নিয়ে বাবার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই বাবার কবর দেখেই ডুকরে শিশুর মত কেঁদে ওঠেন মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। যিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর পরেও শতাধিক মিথ্যা মামলা থাকায় জানাযাতে অংশ নিতে পারেননি। হায় আমার স্বাধীন দেশ! কবে হবে এ জুলুমের অবসান! এ জুলুমের অবসানের প্রতিক্ষায় আজ পুরো বাংলাদেশ। তিনি,নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে বাবা-মার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দির্ঘ্য সময় ব্যাপী
ফাতেহা পাঠ করেন ও দু’হাত তুলে বাবা-মার ও কবরবাসীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টির হয় এবং আমীন! আমীন প্রতিধ্বনিতে কম্পিত হয় পুরো কবরস্থানের পরিবেশ।

ট্যাগস :
Translate »

১৪ বছর পর নিজ মাটিতে পা রাখলেন,মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন

আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ :

সুদির্ঘ্য এক যুগেরও বেশী সময়কাল টানা ১৪ বছর পর নিজ গাঁয়ের মাটিতে পা রাখলেন,৯০’এর স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী সে সময়ের তুখোড় ও কিংবদন্তি ছাত্রনেতা,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল,সিরাজগঞ্জের অহংকার
মজলুম জননেতা মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। প্রায় ৩ বছর কারাভেগের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অতি সম্প্রতি মুক্তি লাভ করে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার জন্য গত মঙ্গলবার ভোরে নিজ জেলা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৌড় গ্রামে কিছুটা সময়ের জন্য আসেন মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,কেন্দ্রীয় মজলিশে শু’রা সদস্য,সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ শাহীনূর আলম,বেলকুচি উপজেলা আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল,উল্লাপাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,
জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওঃ এস,এম মূর্তজা আলী,
মাওঃ আবুল কালাম আজাদ,অধ্যাপক গোলাম আযম,
আব্দুল বারী ও মাওঃ ফজলুল হক প্রমূখ। মূহুর্তেই ভোরের আলো ফোটার আগেই খাঁন সাহেব নিজ গ্রামে আসছেন,খবরটি ছড়িয়ে পরলে তাঁকে একনজর দেখার জন্য তাঁর নিজ এলাকাসহ আশে-পাশের এলাকা:চরনবীপুর,ডিগ্রীচর,লক্ষীকোলা ও নলসন্ধা গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ,আবাল,বৃদ্ধ-বনিতা ও ছাত্র-
জনতার ঢল নামে। গ্রামের সবুজ-শ্যামল ফসলের মাঠ পেড়িয়ে,মেঠোপথ ধরে চাতকের মত প্রিয় সন্তানের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে গ্রামবাসী। কখন আসবে গ্যাঁদা ? আর কত অপেক্ষা! প্রিয় সন্তানকে কাছে পাবার ও এক নজর দেখার প্রত্যাশায় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী’র সে কি আকূতি! আকূতি আর অপেক্ষার প্রহর শেষ করে আপন ও প্রিয়জনদের পাশে এসে গাড়ী থেকে নেমে স্বপ্নের মত দাঁড়ালেন এই গ্রামের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা,শৈশব ও কৈশোরে দূর্বার গতিতে গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে চলা পিন্টু। (পিন্টু,রফিকুল ইসলাম খাঁনের ডাক নাম। নতুন প্রযন্ম না জানলেও গ্রামের মুরব্বিরা তাঁকে পিন্টু নামেই চেনে ) সেই পিন্টুই আজ ১৪ বছর পর এসে ছল ছল চোখে হাত উচিয়ে সালাম দিয়ে বললেন,’আপনারা সবাই কেমন আছেন ? হাজারো জনতা আলহামদুলিল্লাহ বলেই খাঁন সাহেবকে সবাই বুঁকে জড়িয়ে নেন। হাত মিলান ও প্রিয় সন্তানকে কাছে পেয়ে সবাই আবেগ-
আপ্লুত হয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পরেন। এ সময় দৃঢ়চেতা নেতা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে অনেক কষ্ঠে নিজেকে সামলে নেন। অশীতিপর বৃদ্ধ রমিজ আলী চাচা লাঠি ভর করে জনতার ভীর ঠেলে প্রিয় সন্তানকে বুঁকে জঁড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। রমিজ চাচা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাতে মুখে আদরের পরশ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন,’ও গ্যাদা পিন্টু! তোমাক বলে পুলিশ ধইরা ড্যান্ডাবেড়ী পরাইয়া কোর্ট-কাঁচারীত নিয়ে গেছে আর মরছে’! এ প্রশ্নের জবাবে খাঁন সাহেব চাচাকে শান্তনা দেন ও বলেন,’ না বাবা,আলহামদুলিল্লাহ! আমি ভাল আছি। আমার কিচ্ছু হয় নাই’। এ সময়,প্রিয় নেতার পাশে থাকা সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওঃ শাহীনূর আলম রমিজ চাচাসহ উপস্থিত সবাইকে শান্তনা দিয়ে বলেন,
‘আমাদের নেতা এবং আপনাদের প্রিয় সন্তান মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন শুধুমাত্র ইসলামের দাওয়াত ও দ্বীনের কাজ করার কারনেই জালিম সরকার তাঁকে শতাধিক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সুদির্ঘ্য ১৪ টি বছর তাকে স্বাভাবিক ও নাগরিক অধিকার এবং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হওয়ার কারনে তিনি, তাঁর বাবার জানাযায় আসতে পারিনি। আপন চাচা ও বড় ভাইয়ের জানাযাও আসা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষে তাকে আটক করে প্রায় ৩টি বছর কারাবাস করতে হয়েছে। তাঁর সন্তান রিফাত খাঁনসহ তাঁর পরিবারের ওপর জুলুম ও নির্যাতন করা হয়েছে। জুলুম নির্যাতন এখানেই শেষ নয়। জামিন লাভের পরেও বার বার তাঁকে কারাফটক থেকে গ্রেফতার করে মানবাধিকার লংঘন করে ডান্ডাবেড়ী পরিয়ে কোর্টে হাজির করা হয়েছে। মুলত: রফিকুল ইসলাম খাঁনকে কষ্ট দেয়ার হীনো উদ্দেশ্য নয়: বরং,সরকারের উদ্দেশ্য ছিল,দেশের চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলন দূর্বল করার স্বার্থে নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া’। তিনি আরো বলেন,’সরকার তার সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নেতা-কর্মীরা ভয়ও পায়নি,ঘাবরেও যায়নি। বরং বজ্র সাহসে হুমকার বেগে প্রিয় নেতাদের মুক্ত করার দ্বীপ্ত শপথ নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে’। যার কারনে আপনাদের দো’য়া ও আমাদের আইনজীবিসহ নেতা-কর্মীদের প্রচেষ্ঠায় তিনি আবার মুক্ত পরিবেশে ১৪ টি বছর পর আপনাদের সামনে হাজির হতে পেরেছেন,
আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু,এখনো মুক্ত স্বাধীন হতে পারেননি বলেই দুঃখজনকভাবে বাবা ও মায়ের কবরসহ আপন জনদের কবর জিয়ারত করে।জেলা আমীর শাহীনূর আলম উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন,’ এটা কি স্বাধীন দেশ! এ জুলুমের শেষ কোথায়;? জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত মত বিনিময় ও কথা বলা শেষ হলে গাঁয়ের মেঠো পথ ধরেই প্রায় ২ কিলোমিটার পথ শত শত জনতাকে সাথে নিয়ে বাবার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই বাবার কবর দেখেই ডুকরে শিশুর মত কেঁদে ওঠেন মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন। যিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর পরেও শতাধিক মিথ্যা মামলা থাকায় জানাযাতে অংশ নিতে পারেননি। হায় আমার স্বাধীন দেশ! কবে হবে এ জুলুমের অবসান! এ জুলুমের অবসানের প্রতিক্ষায় আজ পুরো বাংলাদেশ। তিনি,নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে বাবা-মার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দির্ঘ্য সময় ব্যাপী
ফাতেহা পাঠ করেন ও দু’হাত তুলে বাবা-মার ও কবরবাসীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টির হয় এবং আমীন! আমীন প্রতিধ্বনিতে কম্পিত হয় পুরো কবরস্থানের পরিবেশ।